ফর্মুলা দেবে রাশিয়া করোনার টিকা উৎপাদন করবে বাংলাদেশ

নিউজ ডেক্সঃ

করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশকে ফর্মুলা দেবে রাশিয়া। তবে শর্ত হলো-এই ফর্মুলা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। বাংলাদেশ এই টিকা উৎপাদনে সক্ষম হলে তা বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে রাশিয়া। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় টিকা স্টোরেজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীনের একটি প্রস্তাবে বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৭ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা করবে চীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।
টিকা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে আমরা দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনা করেছি। কোভিড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তখনো ভ্যাকসিন কোথাও আবিষ্কার হয়নি। আমাদের প্রথম ধারণা ছিল, এটা হয়তো ইউরোপিয়ানরা প্রথম আবিষ্কার করবে। আমরা ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করি। আমরা তখন টাকাও ইউরোপিয়ানদের দিয়ে রেখেছি। আমরা বলি যে, ওইটা (টিকা) হলে পরে আমাদের দেবা। তারপর যখন শুনলাম অক্সফোর্ড এটায় অগ্রসর হয়েছে, আমরা তখন অক্সফোর্ডের সঙ্গে কন্টাক্ট করি, বিভিন্ন দেনদরবার করি, আমাদের সঙ্গে চুক্তি করো, রাজি হয়নি। পরে অক্সফোর্ড জানাল ইন্ডিয়া বড় দেশ, তাদের ফ্যাসিলিটি বেশি তাই তাদের সঙ্গে তারা এগ্রিমেন্ট করছে। তারা ইন্ডিয়াকে বলেছে, বাংলাদেশ ইতিপূর্বে কন্টাক্ট করেছিল, আমরা তখন সঙ্গে সঙ্গে ৩ কোটি অর্ডার দিয়ে রাখলাম। ৫০ লাখ করে মাসে মাসে দেবা। ভারত রাজি হলো। আমরা অগ্রিম টাকাটাও দিয়ে দিয়েছি। তারপর ইন্ডিয়া আমাদের কিছু টিকা দিল। তবে পুরোটা এখনো দিতে পারেনি।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেই সময়ে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে কন্টাক্ট করি। এরপর যখন শুনলাম যে, রাশানরা ভ্যাকসিন তৈরি করছে, তখন তাদের সঙ্গে কন্টাক্ট করি। রাশানরা তখনই আমাদের সঙ্গে বলে যে, আমরা তৈরি করছি। হলে পরে আমরা তোমাদের দেব। একই সময়ে চাইনিজরা তৈরি করল এবং চাইনিজরা বলল যে, আমরা তৈরি করেছি, আমরা তোমাদের দিতে চাই। বাংলাদেশ ইজ অ্যা বিগ মার্কেট। হান্ড্রেড অ্যান্ড সেভেন্টি মিলিয়ন লোক আছে। ভ্যাকসিন অনেকগুলো দরকার। রাশানরা ইউরোপিয়ানদের কাছে বিক্রি করে। কোনো দেশে ৫০ হাজার, কোথাও ১০ লাখ, কোথাও পাঁচ লাখ। আমার দেশে তো লাখ লাখ না। সো বিগ মার্কেট আমাদের। সবাই এদিকে তাকিয়ে আছে। চাইনিজরা তখন রাজি হলো তারা দিবে আমাদের।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন ও রাশিয়ার টিকা আনার সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এখানে তখন একটা সমস্যা হলো। আমাদের পণ্ডিত যারা তারা বললেন, ডব্লিউএইচও অ্যাপ্রোভ না হলে নেব না। রাশান বলেন, আর চাইনিজ বলেন, এগুলো ডব্লিউএইচও অ্যাপ্রোভ না। তাই আমরা একটু পেছনে চলে গেলাম। আমাদের তো আগে অ্যাপ্রোভাল দরকার।’
ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এখন চাইনিজরা বলছে, ডব্লিউএইচও কবে অ্যপ্রোভাল দেবে তার গ্যারান্টি দিতে পারব না। তবে আমাদের ভ্যাকসিনটা ১০ কোটির বেশি মানুষ ব্যবহার করেছে। ৮০টা দেশ আমাদেরটা কিনছে। ৬৩ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এটা গ্রহণ করে কারও কোনো অসুবিধা হয়নি। একই অবস্থা রাশার। রাশিয়া বলছে, আমরা তোমাদের চাহিদা মেটাতে পারব না। তবে আমরা একটা কাজ করতে পারি। আমরা যে ফর্মুলাটা তৈরি করছি সেটা তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। তবে একটা শর্ত, তোমরা এটা কাউকে দেখাতে পারবে না। সেই ফর্মুলায় আমরা সই করেছি। গোপনীয়তার চুক্তিতে আমরা সই করেছি যে, আমরা অন্য কাউকে এটা জানাব না। তখন তারা আমাদের বলেছে, তোমাদের বড় বড় ফার্ম আছে ওরাই করবে। আমরা খুব খুশি। আমরা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির তালিকা তাদের দিয়েছি। তারা এক বা একাধিক কোম্পানিকে দিতে পারে। আমরা উৎপাদন করতে পারলে তৃতীয় দেশে রপ্তানি করতে পারব। এতে রাশিয়া রাজি হয়েছে। রাশিয়ার টিকার দাম খুব বেশি। তবে প্রধানমন্ত্রী টাকার দিকে তাকাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রী ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। এখনো ফাইনাল হয়নি কোন কোম্পানি করবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন ছয় লাখ উপহার হিসাবে দেবে। বাকি ভ্যাকসিন কিনতে হবে। তা ছাড়া চীন একটা দক্ষিণ এশীয় স্টোরেজ গড়ে তুলবে। যাদেরই প্রয়োজন হবে, তারাই এখান থেকে ভ্যাকসিনটা নেবে। চীন জানতে চাইল, এটাতে আপনাদের আপত্তি আছে কিনা। আমরা বলছি, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আমরা এটা নীতিগতভাবে পছন্দ করি। যে কোনো দেশেরই জরুরি প্রয়োজন হতে পারে। তখন যদি এক জায়গায় ভ্যাকসিনটা থাকে তবে তারা সেটা সংগ্রহ করার সুবিধা পাবে। আমরা নীতিগতভাবে এটাতে সম্মতি দিয়েছি। তারা বলেছে, অনেকগুলো দেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা এরা সবাই সম্মতি দিয়েছে। আমরা সম্মতি দিয়ে দিলাম। আপত্তি নেই। তবে আমাদের ডিটেইলটা জানতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চীন বলেছে, আমরা সাউথ এশিয়ার কান্ট্রিগুলোর জন্য এখন একটা কিছু করছি। আপনারা রাজি হলে আমরা ডিটেইল আলাপ করব। আজকে আমাদের পররাষ্ট্র সচিব ওদের ভাইস মিনিস্টার পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। আমরা শুনি কী কী হবে। ২৭ তারিখে এ নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে একটা আলাপ হবে। চীনের এই প্রস্তাব ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশকে দিয়েছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘সার্কের সময়ে গত বছরে মার্চের ১৫ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি একটা আলোচনা করেন। তখন সার্কের আটটি দেশের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেন। আমরা একটা ফান্ড তৈরি করব। সেই ফান্ডটা কোভিড বাবদ খরচ করব। উনি স্বউদ্যোগে ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরাও পরে দেড় মিলিয়ন ডলার দিয়েছি। আটটি দেশই দিয়েছে। এই ফান্ড আবার সার্ক সেক্রেটারিয়ে খরচ করবে। সেটা ছিল ভারতের। এবার ১৫ এপ্রিল এখন চীন স্টোরেজের প্রস্তাব দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তিন কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ার। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি। তবে দেরি হচ্ছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, যে কোম্পানি ভ্যাকসিন দেবে তারা ফুল ক্যাপাসিটিতে তৈরি করছে। কিন্তু ভারতবর্ষ থেকে আসতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু ভারত সব সময় আমাদের অঙ্গীকার করছে যে, তারা ভ্যাকসিন দেবে।’
(সূত্র যুগান্তর)

Leave a Reply

Your email address will not be published.