নিরপেক্ষ ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মুক্তির দাবিতে ইউনিয়নবাসীর মানববন্ধন

নিরপেক্ষ ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মুক্তির দাবিতে ইউনিয়নবাসীর মানববন্ধন

রাজু রায়হান,

সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছী ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিরপেক্ষ ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার, চেয়ারম্যান প্রার্থী মারুফ হোসেনের মুক্তি, চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলের মামলা থেকে মুক্তি ও দল থেকে সাময়িক বহিস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে ইউনিয়নবাসী জেলায় মানববন্ধন করছেন।
মানববন্ধন শেষে নবনির্বাচিত জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সভায় কেঁড়াগাছী ইউনিয়ন তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা হাবিল ও মারুফের সাময়িক বহিস্কার প্রত্যাহারের স্মারকলিপি জমা দেন।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে সাতক্ষীরা লেক ভিউতে এই মানববন্ধন করেন ইউনিয়নবাসীরা। জেলায় মানববন্ধ করার আগে সকাল ১১ টার সময় ইউনিয়নের বোয়ালিয়া কলেজ মাঠে মানববন্ধ করেন ইউনিয়ন বাসীরা।

মানববন্ধে বক্তৃতারা জেলা আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত কমিটির সবাই কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমরা কেড়াগাছি ইউনিয়নের সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে এস এম আফজাল হোসেন হাবিল ও মারুফ হােসানের নিঃস্বার্থ মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।সেই সাথে সাথে আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশের দাবি জানাচ্ছি।

আর আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানাসছি ৫নং কেঁড়াগাছী ইউনিয়নে যেভাবে ভোট হচ্ছে সেটা আসলে গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোট হচ্ছে না। সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে না সেখানে একের পর এক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নৌকা প্রতীকের সমার্থন ও কর্মীরা আফজাল হোসেন হাবিল ও মারুফ ভাইয়ের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করছে,প্রচার গাড়িতে বাধাগ্রস্ত করছে, প্রচার মাইক এর মেমোরি কার্ড কেড়ে নিচ্ছে এবং আফজাল ও মারুফ ভাইয়ের কর্মী ও সমার্থনদের হুমকি -ধামকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দের জানাতে চাই যে ,৫নং কেড়াগাছি ইউনিয়নে নির্বাচনের গতিধারা কিভাবে চলছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। কারণ আমরা শান্তি প্রিয় মানুষ। আমরা শান্তি পূর্ণ পরিবেশের মাধ্যম আমরা আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই। সাধারণ মানুষের ভোট অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যে নির্বাচিত হবে চেয়ারম্যান হিসেবে তাকেই আমরা আমাদের ইউনিয়নের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীবৃন্দ সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাছি যে আপনারা কলারোয়া উপজেলার ৫নং কেঁড়াগাছী ইউনিয়নে শুদৃষ্টি দিন।

উল্লেখ্য: কলারোয়া উপজেলার ৫ নং কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেনের মোটর সাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা। এ ঘটনা জানাজানি হলে, বিকেলে মারুফ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা কাকডাঙ্গা মোড় এলাকায় নৌকার নির্বাচনী কার্যালয় বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় রাত ৮টার দিকে বোয়ালিয়া উত্তর পাড়া এলাকায় আওয়ামীলীগের আর এক বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল ও নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ভুট্টোলাল গাইন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এঘটনায় ভুট্টোলাল গাইন এর স্ত্রী শ্যামলী রানী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ঘটনায় পুলিশ ৫জনকে আটক করে। ৭ সেপ্টেম্বার ৩৮ জনের মধ্যে ২৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পুলিশ বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহর থেকে মারুফ হোসেন আটক করেন। আটক করার পরে জেল হাজতে প্ররণ করা হয়।

এদিকে , জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এবং দলীয় প্রার্থীর (নৌকার) নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও দলীয় প্রার্থীসহ তার কর্র্মীদের মারপিট করে আহত করার ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিলকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.